Sunday, May 24, 2026

মা তারা মন্ত্র

 মা তারার প্রধান ধ্যান মন্ত্র ও প্রণাম মন্ত্র নিচে বাংলায় দেওয়া হলো : 


মা তারার ধ্যান মন্ত্র

"ওঁ প্রত্যালীঢ়পদাং ঘোরাং মুণ্ডমালাবিভূষিতাম্।

খর্ব্বাং লম্বোদরীং ভীমাং ব্যাঘ্রচর্ম্মাবৃতাং কটৌ॥

নবযৌবনসম্পন্নাং পঞ্চমুদ্রাবিভূষিতাম্।

চতুর্ভুজাং লোলজিহ্বাং মহাভীমাং বরপ্রদাম্॥

খড়্গকর্ত্তীসমাযুক্তাসব্যেতরভুজদ্বয়াম্।

কৃপাণোৎপলসংযুক্তাসব্যপাণিযুগান্বিতাম্॥" 



মা তারার প্রণাম মন্ত্র

"নমস্তারে মহোগ্রায়ৈ নীলজীমূতসন্নিভে।

উগ্রতারে নমস্তুভ্যং ত্রাহি মাং ভব-সাগরে॥"

মন্ত্র পাঠের নিয়ম:

মা তারার ধ্যান করার সময় শুদ্ধ চিত্তে ও পবিত্র হয়ে তাঁর মূর্তির সামনে বসে এই মন্ত্রগুলো উচ্চারণ করতে হয়।

Thursday, May 21, 2026

দারিদ্র্যদহনশিবস্তোত্র



দারিদ্র্যদহনশিবস্তোত্র:

বিশ্বেশ্বরায় নরকার্ণবতারণায় কর্ণামৃতায় শশিশেখরধারণায় ।

কর্পূরকান্তিধবল়ায় জটাধরায় দারিদ্র্যদুঃখদহনায় নমঃ শিবায় ॥১॥

গৌরিপ্রিয়ায় রজনীশকলাধরায় কালান্তকায় ভুজগাধিপকঙ্কণায় ।

গঙ্গাধরায় গজরাজবিমর্দনায় দারিদ্র্যদুঃখদহনায় নমঃ শিবায় ॥২॥

ভক্তিপ্রিয়ায় ভবরোগভয়াপহায় উগ্রায় দুর্গভবসাগরতারণায় ।

জ্যোতির্ময়ায় গুণনামসুনৃত্যকায় দারিদ্র্যদুঃখদহনায় নমঃ শিবায় ॥৩॥

চর্মাম্বরায় শবভস্মবিলেপনায় ভালেক্ষণায় মণিকুণ্ডলমণ্ডিতায় ।

মঞ্জীরপাদয়ুগল়ায় জটাধরায় দারিদ্র্যদুঃখদহনায় নমঃ শিবায় ॥৪॥

পঞ্চাননায় ফণিরাজবিভূষণায় হেমাংশুকায় ভুবনত্রয়মণ্ডিতায় ।

আনন্দভূমিবরদায় তমোময়ায় দারিদ্র্যদুঃখদহনায় নমঃ শিবায় ॥৫॥

ভানুপ্রিয়ায় ভবসাগরতারণায় কালান্তকায় কমলাসনপূজিতায় ।

নেত্রত্রয়ায় শুভলক্ষণলক্ষিতায় দারিদ্র্যদুঃখদহনায় নমঃ শিবায় ॥৬॥

রামপ্রিয়ায় রঘুনাথবরপ্রদায় নাগপ্রিয়ায় নরকার্ণব তারণায় ।

পুণ্যেষু পুণ্যভরিতায় সুরার্চিতায় দারিদ্র্যদুঃখদহনায় নমঃ শিবায় ॥৭॥

মুক্তেশ্বরায় ফলদায় গণেশ্বরায় গীতপ্রিয়ায় বৃষভেশ্বরবাহনায় ।

মাতঙ্গচর্মবসনায় মহেশ্বরায় দারিদ্র্যদুঃখদহনায় নমঃ শিবায় ॥৮॥

বসিষ্ঠেন কৃতং স্তোত্রং সর্বরোগনিবারণম্ ।

সর্বসম্পৎকরং শীঘ্রং পুত্রপৌত্রাদিবর্ধনম্ ।

ত্রিসন্ধ্যং যঃ পঠেন্নিত্যং স হি স্বর্গমবাপ্নুয়াৎ ॥৯॥

ইতি শ্রীবসিষ্ঠবিরচিতং দারিদ্র্যদহনশিবস্তোত্রং সম্পূর্ণম্ ॥


স্নানের পর আসন অথবা মেঝেতে বসে পাঠ করুন, বাবার দয়ায় অর্থ কষ্ট দূর হবে। 

Wednesday, May 20, 2026

আদ্যা স্ত্রোত্র

 আদ্যা স্তব

ওঁ শৃণু বৎস প্রবক্ষ্যামি আদ্যাস্ত্রোত্রং মহাফলং ।

যঃ পঠেৎ সততং ভক্ত্যা স এব বিষ্ণুবল্লভঃ ।।

মৃত্যুব্যাধিভয়ং তস্য নাস্তি কিঞ্চিৎ কলৌ যুগে ।

অপুত্রো লভতে পুত্রং ত্রিপক্ষং শ্রবণং যদি ।

দ্বৌ মাসৌ বন্ধনাম্মুক্তির্বিপ্রবক্ত্রাৎ শ্রুতং যদি ।

মৃতবৎসা জীববৎসা ষম্মাসাঞ্ শ্রবনং যদি ।।

নৌকায়াং সঙ্কটে যুদ্ধে পঠনাজ্জয়মাপ্নুয়াৎ ।

লিখিত্বা স্থাপনাদ্ গেহে নাগ্নিচৌরভয়ং ক্কচিৎ ।।

রাজস্থানে জয়ী নিত্যং প্রসন্নাঃ সর্বদেবতাঃ ।

ওঁ হ্রীঁ ব্রাহ্মণী ব্রহ্মলোকে চ বৈকুণ্ঠে সর্বমঙ্গলা ।।

ইন্দ্রানী অমরাবত্যামম্বিকা বরুণালয়ে ।

যমালয়ে কালরূপা কুবেরভবনে শুভা ।।

মহানন্দাগ্নিকোনে চ বায়ব্যাং মৃগবাহিনী ।

নৈঋত্যাং রক্তদন্তা চ ঐশান্যাং শূলধারিণী ।।

পাতালে বৈষ্ণবীরূপা, সিংহলে দেবমোহিনী ।

সুরসা চ মনিদ্বীপে লঙ্কায়াং ভদ্রকালিকা ।।

রামেশ্বরী সেতুবন্ধে বিমলা পুরুষোত্তমে ।

বিরজা ঔড্রদেশে চ কামাখ্যা নীলপর্বতে ।।

কালিকা বঙ্গদেশে চ অযোধ্যায়াং মহেশ্বরী ।

বারাণস্যমন্নপূর্ণা গয়াক্ষেত্রে গয়েশ্বরী ।

কুরুক্ষেত্রে ভদ্রকালী ব্রজে কাত্যায়নী পরা ।

দ্বারকায়াং মহামায়া মথুরায় মাহেশ্বরী ।।

ক্ষুধা ত্বং সর্বভূতানাং বেলা ত্বং সাগরস্য চ ।

নবমী শুক্লপক্ষস্য কৃষ্ণস্যৈকাদশী পরা ।।

দক্ষস্য দুহিতা দেবী দক্ষযক্ষবিনাশিনী ।

রামস্য জানকী ত্বং হি রাবণধ্বংসকারিণী ।।

চণ্ডমুণ্ডবধে দেবী রক্তবীজবিনাশিনী ।

নিশুম্ভশুম্ভমথনী মধুকৈটভঘাতিনী ।।

বিষ্ণুভক্তিপ্রদা দুর্গা সুখদা মোক্ষদা সদা । 

আদ্যাস্তবং পুণ্যং যঃ পঠেৎ সততং নরঃ ।

সর্বজ্বরভয়ং ন স্যাৎ সর্বব্যাধিবিনাশনম্ ।।

কোটিতীর্থফলং তস্য লভতে নাত্র সংশয়ঃ ।।

জয়া মে চাগ্রতঃ পাতু বিজয়া পাতু পৃষ্ঠতঃ ।

নারায়ণী শীর্ষদেশে সর্বাঙ্গে সিংহবাহিনী ।।

শিবদূতী উগ্রচণ্ডা প্রত্যঙ্গে পরমেশ্বরী ।

বিশালাক্ষী মহামায়া কৌমারী শঙ্খিনী শিবা।।

চক্রিণী জয়দাত্রী চ রণমত্তা রনপ্রিয়া ।

দুর্গা জয়ন্তী কালী চ ভদ্রকালী মহোদরী ।।

নারসিংহী চ বারাহী সিদ্ধিদাত্রী সুখপ্রদা ।

ভয়ঙ্করী মহারৌদ্রী মহাভয়বিনাশিনী ।।


।।ইতি ব্রহ্মযামলে ব্রহ্ম- নারদ সংবাদে আদ্যাস্ত্রোত্রম।।



হে বৎস্য । মহাফলপ্রদ আদ্যা স্তোত্র বলিব- শ্রবণ করো । যে সর্বদা ভক্তি পূর্বক ইহা পাঠ করে, সে বিষ্ণুর প্রিয় হয় । এই কলিযুগে তাহার মৃত্যু ও ব্যাধিভয় থাকে না । অপুত্রা তিনপক্ষ কাল ইহা শ্রবন করিলে পুত্র লাভ করে । ব্রাহ্মণের মুখ হইতে দুই মাস শ্রবন করিলে বন্ধন মুক্তি হয় । ছয় মাস কাল শ্রবন করিলে মৃতবৎসা নারী জীববৎসা হয় । ইহা পাঠ করিলে নৌকায়, সঙ্কটে , যুদ্ধে জয়লাভ হয় । লিখিয়া গৃহে রাখিলে অগ্নি বা চোরের ভয় থাকে না । রাজস্থানে নিত্য জয়ী হয় এবং সর্ব দেবতা সন্তুষ্ট হন । হে মাতঃ, তুমি ব্রহ্মলোকে ব্রহ্মাণী, বৈকুন্ঠে সর্বমঙ্গলা , অমরাবতীতে ইন্দ্রানী, বরুণালয়ে অম্বিকা, যমালয়ে কালরূপা, কুবের ভবনে শুভা , অগ্নিকোনে মহানন্দা, বায়ুকোনে মৃগবাহিনী, নৈর্ঝত কোনে রক্তদন্তা, ঈশান কোনে শুলধারিনী, পাতালে বৈষ্ণবীরূপা, সিংহলে দেবমোহিনী, মণিদ্বীপে সূরসা, লঙ্কায় ভদ্রকালিকা সেতুবন্ধে রামেশ্বরী, পুরুষোত্তমে বিমলা, উৎকলে বিরজা, নীলপর্বতে কামাখ্যা, বঙ্গদেশে কালিকা, অযোধ্যায় মহেশ্বরী, বারানসিতে অন্নপূর্ণা , গয়া ক্ষেত্রে গয়েশ্বরী, কুরুক্ষেত্রে ভদ্রকালী, ব্রজে শ্রেষ্ঠা কাত্যায়নী, দ্বারকায় মহামায়া , মথুরায় মাহেশ্বরী । তুমি সমস্ত জীবের ক্ষুধা স্বরূপা, সমুদ্রের বেলা, তুমি শুক্ল পক্ষের নবমী এবং কৃষ্ণ পক্ষের একাদশী। হে দেবী তুমি দক্ষের কন্যা দক্ষযজ্ঞবিনাশিণী , তুমি রামের রাবন ধ্বংসকারিনী জানকী। তুমি চণ্ড মুণ্ড বধকারিনী দেবী , রক্তবীজবিনাশিনী , নিশুম্ভ শুম্ভ মথনী , মধু- কৈটভ ঘাতিনী। তুমি বিষ্ণুভক্তিপ্রদা, দুর্গা, সর্বদা সুখ ও মোক্ষদায়িনী। জয়া আমাকে অগ্রভাগে রক্ষা করুন। বিজয়া পৃষ্ঠদেশে রক্ষা করুন। নারায়নী মস্তকে রক্ষা করুন । সিংহবাহিনী সর্বাঙ্গে রক্ষা করুন। শিবদূতী, উগ্রচণ্ডা, পরমেশ্বরী , বিশালাক্ষী, মহামায়া, কৌমারী, শঙ্খিনী, শিবা, চক্রিনী, জয়দাত্রী , রণমত্তা, রনপ্রিয়া, দুর্গা, জয়ন্তী, কালী ভদ্রকালী, মহোদরী, নারসিংহী, বারাহী, সিদ্ধিদাত্রী, সুখপ্রদা, ভয়ঙ্করী , মহারৌদ্রী, মহাভয়বিনাশিনী আমার প্রতি অঙ্গ রক্ষা করুন ।


ইতি ব্রহ্মযামলে ব্রহ্ম- নারদ সংবাদে আদ্যা স্ত্রোত্রম্ সমাপ্ত ।

মা যোগাদ্যা


৩১শে বৈশাখ। সতীপীঠ ক্ষীরগ্রামের শ্রী শ্রী যোগাদ্যা মায়ের মহাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে এই দিনে।

(স্থান :- ক্ষীরগ্রাম, পূর্ব বর্ধমান জেলা, পশ্চিমবঙ্গ)

আসুন সংক্ষেপে জেনে নেই মা যোগাদ্যার কিছু কথা :-


পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট ব্লক এর ক্ষীরগ্রামের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন মা যোগাদ্যা।

বাংলার অন্যতম একটি সতীপীঠ হলো এই ক্ষীরগ্রাম। এখানে দেবী সতীর ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি পতিত হয়েছে। দেবী, রূপে মহিষাসুরমর্দিনী। দেবীর মূর্তি কষ্টি পাথরের তৈরী।


এখানে দেবী পাতালবাসিনী।

মা যোগাদ্যার মূর্তিটি সারাবছর ক্ষীরদিঘির জলে নিমজ্জিত থাকে। বৈশাখী সংক্রান্তির সময় মায়ের আবির্ভাব দিবস। এছাড়া বিশেষ বিশেষ পুজোর সময় মাকে জল থেকে তুলে এনে চলে পুজো।


ক্ষীরগ্রামের পূজিতা প্রাচীন যোগাদ্যা মূর্তিটি কোনো কারনে হারিয়ে গিয়েছিল। আনুমানিক ২০০ বছর আগে, বর্ধমান মহারাজ কীর্তিচন্দ্রের নির্দেশে দাঁইহাটের নবীন ভাস্কর নতুন যোগাদ্যা মূর্তিটি তৈরি করেন। এই নবীন ভাস্করই হলেন তিনিই, যিনি পরবর্তীতে দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরের মা ভবতারিণীর মূর্তি নির্মাণ করেন। পরবর্তীকালে ক্ষীরদিঘি সংস্কারের সময় পুরোনো মূর্তিটি পাওয়া যায়। বর্তমানে, পুরোনো মহিষাসুরমর্দিনী মূর্তি এবং নবীন ভাস্কর এর তৈরি নবীন মহিষাসুরমর্দিনী মূর্তি, দুটি ভিন্ন মন্দিরে পূজিত হয়। মায়ের মন্দিরটিও বর্ধমানের মহারাজ কীর্তিচন্দ্রের নির্দেশে নির্মিত। মন্দিরের তোরণটিও বেশ নজর কাড়ে ভক্তদের।


দেবী যোগাদ্যা ভৈরব হলেন ক্ষীর খন্ডক।

ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গলে বলা হয়েছে ,

"ক্ষীরগ্রামে ডানি পার অঙ্গুষ্ঠ বৈভব ৷ /

যুগাদ্যা দেবতা ক্ষীরখণ্ডক ভৈরব ৷৷"


অর্থাৎ, দেবী যুগাদ্যা ও ভৈরব ক্ষীরখণ্ডক।


পূজার নিয়ম নীতিতেও নানা প্রথা লক্ষ্য করা যায়। যেমন, মা যোগাদ্যা উপাসনার একটি আশ্চর্য প্রথাও রয়েছে যা বর্তমানে অনুষ্ঠিত হয়, প্রথাটি পৌষ সংক্রান্তি থেকে মাঘ সংক্রান্তি অবধি চলে। এই প্রথার নাম 'নিশিঢম্বুল'। একজন ঢাকি চোখে কাপড় বাঁধা অবস্থায় রোজ মধ্যরাতে মায়ের মন্দিরের গর্ভগৃহে বন্ধ দুয়ারের সম্মুখে ঢাকের বোল তোলেন, এবং রত্নবেদীতে অধিষ্ঠিত মা যোগাদ্যা সেই ঢাকের তালে নৃত্য করেন। কথিত আছে, মায়ের পায়ের নূপুরের শব্দ শোনা যায়। মায়ের রত্নবেদীতে মা জাগ্রত আছেন --- মূল মূর্তি নিমজ্জিত থাকলেও, ভক্তদের এই বিশ্বাস থেকেই এ প্রথা প্ৰচলিত।


দেবী যোগাদ্যার পূজার নিয়ম গুলির মধ্যে আরেকটি অন্যতম নিয়ম হলো দেবীকে শাঁখা পড়ানো। এই নিয়মের কারণ হিসেবে ধরা হয় একটি জনশ্রুতিকে।


একবার এক শাঁখারী শাঁখা বিক্রির জন্য ক্ষীরগ্রামের যোগাদ্যা মন্দিরের দিকেই আসছিলেন। বর্তমান মন্দিরের পশ্চিম দিকে ধামীচদীঘি অবস্থিত। এই ধামীচদীঘির ঘাটেই এক সধবা নারী শাঁখারিকে ডেকে বলে তুমি কোথায় যাচ্ছ? শাঁখারি উত্তরে বলেন "শঙ্খ বেঁচিবার তরে যইছি ক্ষীরগ্রাম"। তখন ওই তখন ওই নারী বলেন, "ওখানে তোমার শাঁখা পড়ার কেউ নেই আগে আমায় শাঁখা পড়াও তারপর যেখানে যাবার যেও।" শাঁখারি শাঁখা পড়িয়ে টাকা চাইলে তখন ওই নারী বলেন "ওই যে দূরে মন্দির দেখছো, ওখানে আমার বাবা আছে, তাঁর কাছে গিয়ে বলো তার মেয়ে শাখা পড়েছে,কোলঙ্গায় টাকা আছে যেন তোমায় দেয়।"


শাঁখারি মন্দিরে এসে পুরোহিত মশাইকে সব বলেন। পুরোহিত শুনে অবাক। পুরোহিত বলে, আমারতো কোন মেয়ে নেই,তাহলে কাকে শাঁখা পড়ালে তুমি ওই ধামীচির ঘাটে?

 

পুরোহিত মা যোগাদ্যার লীলা বুঝতে পেরে কাঁদতে কাঁদতে ছুটে আসে ধামীচির ঘাটে। মাকে বলতে থাকেন "সারা জীবন তোর সেবা করলাম, তোর দেখা আমি পেলাম না। শাঁখারী কত পুণ্যবান সে তোকে শাঁখা পরিয়ে গেল, আমায় দেখা দিবি না মা?"


মা যোগাদ্যা জলের মধ্যে থেকে দু হাত তুলে তার শাঁখা পড়া হাত দেখায়।


এরূপ জনশ্রুতি থেকেই মা যোগাদ্যার শাঁখা পড়ানোর নিয়ম।


দেবী যোগাদ্যা পূজার বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য নিয়ম কানুন আছে।যেমন-নিশিঢম্বুল,মাসি-পিসির ঝাঁপি,শাঁখা পড়া,ক্ষীরদীঘি প্রদক্ষিণ প্রভৃতি।


এই দেবীকে ঘিরে রয়েছেন অনেক পৌরাণিক কাহিনী ও জনশ্রুতি।


কবি কৃত্তিবাসের লেখনি থেকে আমরা দেবী যোগাদ্যার মর্তে আগমনের পৌরাণিক কাহিনীটি জানতে পারি। যা বহুল প্রচলিত। রামায়ণের যুগে যখন রাম-রাবণের যুদ্ধ চলছে তখন রাবণের পুত্র মহিরাবন, রাম ও লক্ষণকে তাঁর আরাধ্যা দেবী ভদ্রকালীর কাছে বলি দেওয়ার জন্য পাতালে বন্দি করেছিল। বলি দেওয়ার পূর্বে মহিরাবন, রাম ও লক্ষণকে বলেন তোমরা মা ভদ্রকালীকে ভূমিষ্ঠ হয় প্রণাম করো। তখন রামভক্ত হনুমান মাছির রুপ ধরে রামের কানে কানে শিখিয়ে দেয় যে বলুন "আমরা রাজার ছেলে প্রণাম করতে জানিনা আপনি আমাদের শিখিয়ে দিন"। এই বলে শ্রী হনুমান মা ভদ্রকালীর খড়্গের উপর মাছি রূপে গিয়ে বসেন। শ্রী রামচন্দ্রের কথা শুনে মহিরাবন মাথা নিচু করে ভূমিষ্ঠ হয়ে প্রণাম করতে যায়। এই সুযোগে রামভক্ত হনুমান ভদ্রকালীর খড়্গ নিয়ে মহিরাবনকে বধ করেন। হনুমান, রাম ও লক্ষণকে সঙ্গে নিয়ে পাতাল থেকে বেরোতে উদ্যোগী হলে তখন মা ভদ্রকালী বলে-"তোমরা তো চলে যাচ্ছ আমাকে এখানে একা ফেলে গেলে তো হবে না। আমাকে পৃথিবীর মধ্যস্থল যেখানে,সেখানে নিয়ে চলো।" হনুমান সুরঙ্গ পথে রাম-লক্ষণকে কাঁধে ও মাথায় নিয়ে, মা ভদ্রকালীকে সঙ্গে করে নিয়ে আসেন এই ক্ষীরগ্রামে।


এরকম আরও অনেক কাহিনীর মধ্যেই,এই দেবী যোগাদ্যার সাথে সর্বাধিক প্রচলিত যে জনশ্রুতিটি রয়েছে, সেটি হল ---

"যার ভয়ে পালাও মা তুমি, সেই মা যোগাদ্যা আমি"--- কথিত আছে একদা হরিদত্ত নামে এক রাজার সন্নিকট দেবীর আগমনে শুরু হয় এই পূজা ৷ সপ্তাহব্যাপী মহাধুমধামের মধ্য দিয়ে চলে ৷ কিন্তু অত্যাশ্চর্য ঘটনাটি হল তখন পূজা হত নরবলি দিয়ে ৷ রাজা সমস্ত পরিবারের জন্য নিয়ম চালু করেন যে, বলির জন্য প্রত্যেক পরিবারের একজন সদস্য চায় প্রতি পূজায় ৷ স্বভাবতই শোকচ্ছায়া নেমে আসে প্রজাবর্গের মধ্যে ৷ নিয়মানুসারে একদিন এক ব্রাহ্মণীর পালা পড়ে, শোকগ্রস্ত ব্রাহ্মণী তার ছেলেকে নিয়ে ভোররাত্রিতে গ্রাম পরিত্যাগ করার চেষ্টা করে ৷ কিন্তু পথমাঝে সেই ব্রাহ্মণীকে দেবী দর্শন দেন এক বুড়ির বেশে।দেবী ব্রাহ্মণীকে বলেন, এতো রাতে তোমরা কোথায় যাচ্ছ? ব্রাহ্মণী সব ঘটনা বর্ণনা করে বলে ওই রাক্ষসী দেবীর ভয়ে চলে যাচ্ছি নাহলে আমার ছেলেটাকেও খাবে। দেবী হেসে বলেন "যার ভয়ে পালাও মা তুমি, সেই মা যোগাদ্যা আমি"।মা আশ্বাস দিয়ে বলেন, যা তোর ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যা। আমি কোনো মায়ের কোল খালি করে নরবলি চাই না।দেবী যোগাদ্যার আশীর্বাদে তারা গ্রামে ফিরে আসে এবং নরবলির পরিবর্তে শুরু হয় মহিষবলি ৷

এতসব পৌরাণিক কাহিনী, জনশ্রুতি, লোককথার মাঝেও দেবী যোগাদ্যা ক্ষীরগ্রামসহ সারা পৃথিবীর মাতৃভক্তদের কাছে সদা জাগ্রত।


জানা গিয়েছে, এই ক্ষীরগ্রামে একটা সময় বেশ কিছু চতুষ্পাঠী ছিল। মিলেছে বহু প্রাচীন পুঁথি। স্থানীয় ইতিহাস নিয়ে যাঁরা চর্চা করেন, তাদের দাবি, বেশ কয়েক জন পণ্ডিত এই গ্রামে বিদ্যাচর্চা করতেন। গবেষক যজ্ঞেশ্বর চৌধুরী জানিয়েছেন, এই জনপদে অন্তত ৪০টি যোগাদ্যা বন্দনার পুঁথি মিলেছে। তবে তার মতে, সবথেকে আগে যোগাদ্যা বন্দনা লিখেছিলেন কবি কৃত্তিবাস।


আমাদের পেজের পাঠকবর্গকে এখনও অবধি যে যে তথ্য দিয়ে সতীপীঠ ক্ষীরগ্রাম ও মা যোগাদ্যা সম্বন্ধে যা জানাতে পারলাম, তাতে এটুকু বোঝা যায় যে বাংলার এই অন্যতম সতীপীঠ ক্ষীরগ্রাম ও মা যোগাদ্যা পূজা বাংলার তথা ভারতের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের ধারক ও বাহক। এই ক্ষীরগ্রাম ও মা যোগাদ্যার নানা ঘটনাবলী, পূজার রীতিনীতি ইত্যাদি প্রাচীন ইতিহাস গবেষকদের কাছে খুবই মূল্যবান।

সংগৃহীত 

মা তারা মন্ত্র

 মা তারার প্রধান ধ্যান মন্ত্র ও প্রণাম মন্ত্র নিচে বাংলায় দেওয়া হলো :  মা তারার ধ্যান মন্ত্র "ওঁ প্রত্যালীঢ়পদাং ঘোরাং মুণ্ডমালাবিভূষিত...